১২ই আগস্ট, ২০২০ ইং, বুধবার

ঘূর্ণিঝড় মোকাবেলায় শরণখোলার উপকূলবর্তী মানুষের পাশে এমপি মিলন

আপডেট: মে ২০, ২০২০

| মেহেদী হাসান রাসেল

  • ফেইসবুক শেয়ার করুন

বাগেরহাটের শরণখোলায় ঘূর্ণিঝড় আম্ফানের প্রভাবে মাঝারি বৃষ্টিপাতসহ হালকা বাতাস বইছে। গত দুদিন ধরে ভ্যাপসা গরমের পর মঙ্গলবার ইফতারির পর পরই মানুষ আশ্রয় কেন্দ্রে যেতে শুরু করেছে। নদ-নদীর পানি স্বাভাবিক অবস্থায় রয়েছে। উপজেলা প্রশাসন, পুলিশ, সিপিপি ও রেডক্রিসেন্টের স্বেচ্ছাসেবকরা আবহাওয়ার সতর্কবার্তা প্রচারের পাশাপাশি ঝুঁকিপূর্ণ এলাকার মানুষকে আশ্রয় কেন্দ্রে যেতে সহযোগিতা করছে।

উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় সাইক্লোন শেল্টারে কয়েক হাজার মানুষ আশ্রয় নিয়েছে।

উপকূলের দিকে ধেয়ে আসছে ঘূর্ণিঝড় “আম্ফান”। দূর্যোগপূর্ব এবং দূর্যোগ পরবর্তী করণীয় বিষয়ে সর্বশেষ পরিস্থিতি জানতে প্রচন্ড ঝড়-বৃষ্টি উপেক্ষা করে বাগেরহাটের শরণখোলায় ছুটে আসেন বাগেরহাট-৪ আসনের সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট আমিরুল আলম মিলন।

এদিকে, ঘূর্ণিঝড় আম্ফানের সর্বশেষ পরিস্থিতি, ঝড় মোকাবেলায় প্রস্তুতি এবং পরবর্তী করণীয় বিষয়ে মঙ্গলবার বাগেরহাট-৪ আসনের সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট আমিরুল আলম মিলন উপজেলা প্রশাসন, পুলিশ, জনপ্রতিনিধি, রাজনৈতিক দলের নেতা, গণমাধ্যমকর্মী ও সেচ্ছাসেবী সংগঠনের কর্মীদের সাথে শরণখোলায় জরুরি মতবিনিময়সভা করেছেন।

বিকেল সাড়ে পাঁচটার দিকে থানা কমপ্লেক্স মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত এ জরুরি সভায় ইউএনও সরদার মোস্তফা শাহিন, ওসি এসকে আব্দুল্লাহ আল সাইদ, কৃষি কর্মকর্তা সৌমিত্র সরকার, আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আজমল হোসেন মুক্তা, শ্রমিকলীগের সভাপতি মেজবাহ উদ্দিন খোকন, যুবলীগের আহ্বায়ক ইউপি চেয়ারম্যান আসাদুজ্জামান মিলন প্রমূখ এ বিষয়ে আলোচনা করেন।

এসময় সংসদ সদস্য আমিরুল আলম মিলন বলেন, সরকার ঘূর্ণীঝড় “আম্ফান” মোকাবেলায় সর্বাত্মক প্রস্তুতি গ্রহণ করেছেন। পর্যাপ্ত পরিমানে শুকনা খাবার মজুদেও ব্যবস্থা করা হয়েছে এবং জানমালের ক্ষয়ক্ষতি কমানোর লক্ষ্যে সকলকে দ্রুত আশ্রয়কেন্দ্রে যাওয়ার আহবান জানান।

ইউএনও সরদার মোস্তফা শাহি জানান, আম্ফান মোকাবেলায় উপজেলা প্রশাসনের সব ধরেণের প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। উপজেলা পরিষদে একটি নিয়ন্ত্রণ কক্ষ খোলা হয়েছে। একই সাথে খোলা হয়েছে চারটি ইউনিয়ন পরিষদে আলাদা আলাদা নিয়ন্ত্রণ কক্ষ। করোনা সংক্রমণ এড়াতে ১০৭টি সাইক্লোন শেল্টারের সাথে আরো ২৩টি বিদ্যালয় ভবন সংযুক্ত করা হয়েছে। এ নিয়ে মোট ১৩০টি আশ্রয় কেন্দ্র প্রস্তুত রাখা হয়েছে। এসব আশ্রয় কেন্দ্রে ঝূঁকিপূর্ণ এলাকার প্রায় ২২ হাজার মানুষ আশ্রয় নিতে পারবে।

ইউএও জানান, ফায়ার সার্ভিস, সিপিপি, রেডক্রিসেন্ট, আনসার-ভিডিপি সদস্যদের সমন্বয়ে ১০০০ স্বেচ্ছাসেবক এবং ১৪টি প্রাথমিক চিকিৎসক দল প্রস্তুত রয়েছে। আশ্রয় কেন্দ্রে আশ্রিতদের প্রাথমিক খাদ্য সহায়তার জন্য দুই মেট্রিকটন শুকনা খাবর মজুদ রয়েছে। আশ্রয় কেন্দ্রগুলোতে খাবার পানি ও করোনা স্বাস্থ্য সুরক্ষার ব্যবস্থা রাখা হয়েছে।

শরণখোলার জ্যেষ্ঠ মৎস্য কর্মকর্তা বিনয় কুমার রায় জানান, গভীর সাগরে মাছ ধরারত ফিশিং ট্রলার ও নৌকাসমূহ ইতিমেধ্য উপকূলে ফিরে এসেছে। আম্ফানে জলোচ্ছাসের মাত্রা বেশি হলে উপজেলার ১৩৪২ মাছের ঘের, ২০৬৩টি পুকুর এবং ১৮০টি কাঁকড়া ঘেরের ক্ষতি হতে পারে।

কৃষি কর্মকর্তা সৌমিত্র সরকার জানান, আম্ফানের আগাম প্রস্তুতি হিসেবে উপজেলা বিভিন্ন এলাকার ৮৫ হেক্টর জমির বোরো, ৪৫ হেক্টর ভুট্টা, ৫০ হেক্টর মুগ, ১ হেক্টর সূর্যমুখী কর্তন এবং ১০ হেক্টর জমির বাঙ্গি, ২ হেক্টর তরমুজ, ২৫ হেক্টর জমির মিষ্টি আলু উত্তোলন করা হয়েছে। ঝড়-জলোচ্ছাসে ১০ হেক্টর সবজি, ২ হেক্টর পাট এবং ৫০ হেক্টর জমির আউশ ধানের বীজতলা ক্ষতির আশঙ্কা রয়েছে।

উপজেলা পরিষদের ঘূর্ণিঝড় আম্ফান নিয়ন্ত্রণ কক্ষ (কন্ট্রোল রুম) সূত্রে জানা গেছে, ইফতারির পর থেকে নারী, শিশু, বৃদ্ধ এবং প্রতিবন্ধী মানুষ আশ্রয় কেন্দ্রে যেতে শুরু করেছে। বলেশ্বর নদতীরবর্তী সাউথখালী ইউনিয়নের ঝুঁকিপূর্ণ বগী, দক্ষিণ সাউথখালী, তাফালবাড়ী, চাল রায়েন্দা, রায়েন্দা ইউনিয়নের রাজেশ্বর, জিলবুনিয়া, রায়েন্দা বাজার পূর্বমাথা, খোন্তাকাটা ইউনিয়নের রাজৈর, পূর্ব খোন্তাকাটা এবং ধানসাগর ইউনিয়নের উত্তর রাজাপুর ও পশ্চিম রাজাপুর এলাকার সাইক্লোন শেল্টারগুলোতে প্রায় ৪০০০ হাজার মানুষ আশ্রয় নিয়েছে।

  • ফেইসবুক শেয়ার করুন

সম্পাদক : মোতাহার হোসেন প্রিন্স, প্রকাশক : মেহেদী হাসান রাসেল

ফ্লাটঃ ৪বি, লেভেলঃ ৪, বাড়ীঃ ১৫, রোডঃ ১৪, সেক্টরঃ ১৩, উত্তরা, ঢাকা ১২৩০

ফোন: 01675132946 

E-mail: dailysongjog@gmail.com

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত